সংক্ষেপে বিদায়ী বছরে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম

প্রকাশিত: ২:২৫ পিএম, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০
  • শেয়ার করুন

সময়ের কাঁটা ঘুরে বিদায় নিচ্ছে আরও একটি বছর। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে অনেক হারানোর বছর ২০২০।

সংক্ষেপে বিদায়ী বছরে জাতীয় সংসদের কার্যক্রমঃ

১. ২০১৯ সালে পাঁচটি অধিবেশনের ৬১টি কার্যদিবস ছিল। বিল পাস হয় ১৯টি। কিন্তু বিদায়ী বছরের (২০২০) পাঁচটি অধিবেশনে কার্যদিবস ছিল ৫৩টি। বিল পাস হয়েছে ২৭টি। এ বছর সংসদের কার্যদিবস কম থাকলেও বিল পাসের সংখ্যা বেশি।

২. বিদায়ী বছর প্রথম এবং একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশন ৯ জানুয়ারি শুরু হয়। এর কার্যদিবস ছিল ২৮টি। বিল পাস হয়েছে ৭টি।

৩. ২২ ও ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হলেও করোনাভাইরাসের কারণে তা স্থগিত করা হয়।

৪. বছরের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় ১৮ এপ্রিল। এ অধিবেশনের কার্যদিবস ছিল মাত্র একটি। এই অধিবেশনে কোনো বিল পাস হয়নি। করোনার কারণে অধিবেশন থেকে সাংবাদিকদের সংসদে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন সবকিছু আগের নিয়মে চললেও ‘রহস্যজনক’ কারণে সংসদে অধিবেশন চলাকালীন সাংবাদিকরা যেতে পারেন না।

৫. বছরের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয় ১০ জুন। এটি ছিল বাজেট অধিবেশন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণেও এটি সংক্ষিপ্ত করে মাত্র ৯ কার্যদিবস চলে। বিল পাস হয় পাঁচটি।

৬. বছরের চতুর্থ অধিবেশন ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। এর কার্যদিবস ছিল পাঁচ দিন। বিল পাস হয় ছয়টি।

৭. বছরের শেষ অধিবেশন শুরু হয় ৮ নভেম্বর। কার্যদিবস ছিল ১০টি। এ অধিবেশনে ৯টি আইন পাস হয়েছে। এই অধিবেশনের দুটি কার্যদিবস বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সংসদ কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ এটাই সংসদের প্রথম বিশেষ অধিবেশন। এর আগে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী প্রস্তাব পাসের সময় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অধিবেশন কক্ষে শোনানো হয়েছিল। জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংসদ লেকে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন দুটি নৌকা ভাসানো হয়, যা তৈরি করতে ব্যয় হয় ৪০ লাখ টাকা।

বিশেষ অধিবেশন উপলক্ষে গত ৯ নভেম্বর অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মারক বক্তৃতা দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ওই দিনই বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে সংসদে একটি প্রস্তাব আনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সরকারি ও বিরোধীদলীয় ৭৯ সংসদ সদস্য এর ওপর ১৯ ঘণ্টা ৩ মিনিট আলোচনা করেন। ১৫ নভেম্বর সংসদে সেই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। এরপর দিন থেকে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিদায়ী বছরে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০২০ পাস হয়।

বিদায়ী বছর সংসদের কার্যক্রম মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আমরা সংবিধানের বাইরে যাইনি। স্বল্প পরিসরে হলেও অধিবেশন বসেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশন। এ অধিবেশন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সফল।