ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি

প্রকাশিত: ১০:৪১ এএম, মার্চ ২৬, ২০২১
  • শেয়ার করুন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আজ শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে এক টুইটে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী প্লেনের সিঁড়িতে দাঁড়ানো এমন একটি ছবি শেয়ার করে টুইটে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছেন। বাংলাদেশ সফরকালে তিনি আমাদের বন্ধুসুলভ প্রতিবেশীর সঙ্গে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর লক্ষ্যে বিস্তৃত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এর আগে, বাংলাদেশ সফরের জন্য তর সইছে না জানিয়েছে একাধিক টুইট করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই। দুই দিনব্যাপী এ সফর সম্পর্কে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক অগ্রগতির প্রশংসাই শুধু নয়, এসব অর্জনে ভারতের অব্যাহত সমর্থনে প্রতিশ্রুতি জানানোও আমার এই সফরের অন্যতম উপলক্ষ।

বৃহস্পতিবার আরেক টুইটে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আগামীকাল বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবো। আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও আদর্শ স্মরণ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর উদযাপনের পাশাপাশি আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বরণ করতে প্রস্তুত ঢাকা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বসানো হয়েছে তোরণ। সড়কের খুঁটি, ভবন ও দেয়ালে মোদির ছবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধক ভাস্কর্যগুলোতেও ফুলের সঙ্গে শোভা পাচ্ছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি। বড় বড় করে বিভিন্ন জায়গায় লেখা হয়েছে, ‘স্বাগতম ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা বাংলাদেশে সফর করেছেন। করোনার কারণে অনেক দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত না হয়ে পাঠিয়েছেন ভিডিও বার্তা।

১৭ থেকে ২৬ মার্চ ১০ দিনের অনুষ্ঠানে এর আগে বিদেশি নেতারা অংশ নিয়েছেন। শেষ দিন (২৬ মার্চ) অংশ নেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন নরেন্দ্র মোদি। তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার দেয়া হবে।

এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন। ধানমন্ডি-৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতেও শ্রদ্ধা জানাবেন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শন করবেন। বিকেলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

সন্ধ্যায় মোদি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথভাবে ‘বঙ্গবন্ধু-বাপু জাদুঘর’ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। তিনি তার সম্মানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।

২৭ মার্চ শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি ও কাশিয়ানী উপজেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করবেন। ইতোমধ্যে সেখানেও তাকে স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে উলু ও শঙ্খধ্বনি দিয়ে এবং ডঙ্কা ও কাঁসা বাজিয়ে মতুয়া ধর্মাবলম্বীরা নরেন্দ্র মোদিকে বরণ করবেন বলে জানা গেছে।

একই দিন সাতক্ষীরায় হিন্দু মন্দিরও পরিদর্শন করবেন মোদি। এছাড়াও বাংলাদেশ সফরে তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এ সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকগুলো চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা অন্যতম। এছাড়া তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারত দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে আসবে বলেও জানা গেছে।