খালেদা জিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ২:১৮ পিএম, মে ৪, ২০২১
  • শেয়ার করুন

এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে ভর্তি বেগম খালেদা জিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৪ মে) সকালে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মহান মে দিবস ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদের ৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফখরুল বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব শেষ আশ্রয়স্থল, গণতন্ত্রের একমাত্র প্রহরী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সমগ্র দেশবাসী দোয়া করছেন। অনেকে উদ্বিগ্ন আছেন যে দেশনেত্রী কেমন আছেন? শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গতকাল (৩ মে) তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়েছিল, এখনো আছেন। তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। এখন তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। বেগম খালেদা জিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তাররা আশাবাদী যে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

তিনি আরও বলেন, সভ্যতার ক্রমবিকাশের ফলে, কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিস্তাত, গণতন্ত্রের নিম্নগামী চেহারার কারণে সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। করোনার মহামারীতে সব চেয়ে বেশি দুর্দশায় পড়েছেন, সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শ্রমীক শ্রেণীর মানুষ। বাংলাদেশে অবস্থা আরও করুণ, বাংলাদেশ একটি সরকার বসে আছে যারা দখলদারি সরকার, পুরোপুরিভাবে তাদের ফ্যাসিস্ট একটা চরিত্র আছে। ফ্যাসিস্ট চরিত্রের ফলে এখানে তারা সব চেয়ে বেশি আঘাত করছে শ্রমিক শ্রেণীকে, সব চেয়ে বেশি আঘাত করছে এখানে যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছে, অধিকারের জন্য লড়াই করছে তাদেরকে।

করোনার পর পৃথিবী কিন্তু এক রকম থাকবে না উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্র না থাকলে শ্রমীক শ্রেণীর স্বার্থ কোনোদিন আদায় হবে না। অন্যান্য পেশাজীবীদের স্বার্থ আদায় হবে না, হতে পারে না। প্রত্যকের যে অধিকার, সে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পরিবর্তন নিয়ে আসে তরুণেরা, যুবকেরা। পরিবর্তন নিয়ে আসে শ্রমীক শ্রেণীর মানুষেররা, যেকোনো পরিবর্তনে এই শ্রেণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক যত প্রতিষ্ঠান আছে তার সবগুলোকে এই সরকার ভেঙ্গে দিয়েছে, ধ্বংস করে দিয়েছে। পার্লামেন্টেকে একদলীয় পার্লামেন্টের পরিণত করছে, আইন বিচার ব্যবস্থাকে সম্পুর্ণভাবে দলীয়করণ করে নিয়েছে, প্রশাস সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করে নিয়েছে, শুধু প্রশাসন নয় রাষ্ট্রের অন্যান্য যত প্রতিষ্ঠান আছে সবগুলোই দলীয়করণ করে নিয়েছে। একজন অযোগ্য নির্বাচন কমিশনের দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। বাংলাদেশ একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে, এদেশে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা শুধু বিএনপির জন্য নয়, কাউকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা কাউকে কোনো জায়গায় বসানোর জন্য নয়। এদেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য, দেশকে একটা সত্যিকার অর্থে সফল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। এ কাজ অত্যন্ত কঠিন, অত্যন্ত দুরূহ একটা কাজের মধ্যে দিয়ে আমাদের এগোতে হবে।