একুশ মানে মাথা নত নয়, একুশ মানে চেতনাঃ প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা

প্রকাশিত: ৩:৪২ পিএম, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১
  • শেয়ার করুন

নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধভাবে বাংলা চর্চা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) শিশু একাডেমি আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

শিশুদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও ২০৪১ সালের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তোমরাই মূল ভূমিকা রাখবে। একুশ মানে মাথা নত নয়, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে অনুপ্রেরণা। যারা নতুন প্রজন্ম আছো তোমাদের কাছে আশা করি তোমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িকতায় তোমরা বেড়ে উঠবে। এটাই হবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মতৃভাষা দিবসের অঙ্গীকার।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কাজী রওশন আক্তার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশু একাডেমির মহাপরিচালক জ্যোতি লাল কুরী।

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, আজকের শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবসকে ১৯২টি দেশ মর্যাদার সাথে পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই একযুগ শাসন আমলে বাংলাদেশ বদলে গেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন সারাবিশ্বে প্রশংশিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্রীরা রাজপথে মিছিল করেছিল। জাতির পিতা তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইয়ে ভাষা আন্দোলনে ছাত্রী অংশগ্রহণ নিয়ে লিখেছেন, বহু ছাত্র গ্রেফতার ও জখম হল। কয়েকজন ছাত্রীও মার খেয়েছিল। মুসলিম গার্লস স্কুলের ছাত্রীরা সকাল ১০টায় স্কুলের ছাদে উঠে স্লোগান দিতে শুরু করত আর চারটায় শেষ করতো।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকজন আল বদর, রাজাকার ব্যতীত সাড়ে সাত কোটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কেউ যদি মনে করে কোনো এক অজ্ঞাতনামা মেজরের ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো তাহলে এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের উচ্চতা, গভীরতা ও ব্যাপকতার সাথে কারো তুলনা হয় না। খলনায়ক কিন্তু খলনায়কই থাকে, খলনায়ক যেমন কোনদিন নায়ক হতে পারে না। তেমনই কোনো পাঠকই কিন্তু ঘোষক হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের যারা বিরোধিতা করেছিলো, তারাই কিন্তু তাদের পরাজয়ের গ্লানি মোচনের জন্য বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিলো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব কাজী রওশন আক্তার বলেন, মাতৃভাষার আন্দলোন যে কত গভীর তা দিনে দিনে বুঝেছি। তিনি নতুন প্রজন্মের শিশুদের কাছে শুদ্ধভাবে মাতৃভাষা বলার আহ্বান জানান। এ ছাড়াও যথাযোগ্য মর্যাদায় যেন বাংলাভাষা ব্যবহার হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ঢাকা কেন্দ্র , জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের শিশুদের পরিবেশনায় ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।