আওয়ামী লীগের বিনা ভোটে জয়ী ১৩ চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: ৩:৩৩ পিএম, মার্চ ২২, ২০২১
  • শেয়ার করুন

আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তিন উপজেলায় ১৩ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বা হতে যাচ্ছেন। তারা সবাই আওয়ামী লীগ মনোনীত (নৌকা প্রতীক) প্রার্থী।

ভোলার চরফ্যাশনের পাঁচটি ইউপিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে। অন্য দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে আওয়ামী লীগের পাঁচজন প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে নির্বাচন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।

নির্বাচিতরা হলেন চরমাদ্রাজে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুল হাই মিয়া, জাহানপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন হাওলাদার, এওয়াজপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আলম খোকন, হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি সেলিম হাওলাদার এবং চরকলমী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান কাউছার আহম্মেদ মাস্টার।

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সাতটি ইউপির ছয়টিতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তারা হলেন- উদয়পুর ইউপিতে এস কে হায়দার মামুন, চুনখোলা ইউপিতে মনোরঞ্জন পাল, কুলিয়া ইউনিয়নে মোল্লা মিজানুর রহমান, গাওলা ইউনিয়নে শেখ রেজাউল কবীর, কোদালিয়া ইউনিয়নে শেখ রফিকুল ইসলাম ও আটজুটি ইউনিয়নে মো. মনিরুজ্জামান মিয়া।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ মনোনীত ছয়জন ও স্বতন্ত্র একজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। শুক্রবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে উদয়পুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী চৌধুরী মনিরুজ্জামান মিনুর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রবীর কুমার মল্লিক জানান, ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে অন্য প্রার্থী না থাকায় ২৫ মার্চ নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে দুটিতে ভোটের আগে দুজন প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। তারা হলেন- সাউথখালী ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মোজাম্মেল হোসেন ও রায়েন্দা ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল হোসেন মুক্তা। রোববার দুপুরে রায়েন্দা ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন তার মনোনয়ন প্রত্যাহারপত্র উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।

এদিকে একই সময়ে খোন্তাকাটা ইউনিয়নে উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মেজবা উদ্দিন খোকন নৌকার বিপক্ষে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তবে ওই ইউনিয়নে নৌকার দুই বিদ্রোহী ও ইসলামী আন্দোলনের একজন প্রার্থী এখনো বহাল রয়েছেন।

রায়েন্দায় দলের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা মুক্তা ও মিলন একে অন্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সাংগঠনিকভাবে মারাত্মক সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দেয়। মিলন বলেন, ‘আমি সারা জীবন দলীয় শৃঙ্খলা মেনে রাজনীতি করে এসেছি। দলের বা নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে নয়, কর্মীদের সান্ত্বনা দিতে আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। দলের বৃহত্তর স্বার্থে তা প্রত্যাহার করলাম।’

মুক্তা বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় মিলনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অঞ্জন সরকার জানান, চারটি ইউনিয়নে নৌকা ও এর বাইরে ১২ প্রার্থীর মধ্যে এখন ১০ জন নির্বাচনী মাঠে আছেন।